
বিয়ে বিভ্রাট
— শেখ রমজান হাসান নূর
আমার বিয়ে কি হবে কখনো? পাত্রীটি হবে কে?
কবে আমি একা সিঙ্গেল থেকে ডাবল হবো রে!
আমি তো জানি না, কার কপালেতে লেখা আমার নাম,
বিয়ের বাজারে দিন দিন শুধু বাড়ছে জীবনের দাম।
আমাদের সেই সাজানো সংসার, মায়ের স্নেহের ছোঁয়া,
মা চলে গেলেন না-ফেরার দেশে, ঘর হল আজ খালি।
মা থাকতে বিয়ে করিনি বলে, শুনি কত যে গালি,
এক বন্ধু বলেছিল হাসিমুখে, “দেবো তোমায় আমার শালী!”
সে আশ্বাসও মিলিয়ে গেছে সময়েরই চলায়,
সেই ভরসা ছেড়ে আজ আমি একাই পথ চলায়।
সবাই তো ঘোরে নিজের গরজে, যে যার কাজে ব্যস্ত,
সবার প্রয়োজনে আমি আছি, নিজের পকেট ধ্বস্ত।
সবকিছু আমি সয়ে গেছি, মেনে নিয়েছি দায়,
তবু মনে প্রশ্ন জাগে, বিয়েটা হবে আমার কার ইশারায়?
এখন আমি বড়ই একা, কাটে না একাকী রাত,
কবে যে আসবে সেই প্রিয়তমা, মুখে তুলে দেবে ভাত!
আল্লাহ জানেন মনের খবর, তিনিই তো সব বোঝেন,
জন্ম, মৃত্যু, বিয়ের ফয়সালা তিনিই আগে লেখেন।
তাই তো মনে জাগে প্রশ্ন, উত্তর নাহি পাই,
কবে যে শ্বশুরমশাই ডাকবেন, “বাবাজান, এদিকে আয়!”
বন্ধু-বান্ধব আড্ডায় বসে খোঁচা দেয় যে রোজ,
“কবে খাওয়াবি বিয়ের বিরিয়ানি?” আর নেয় না খোঁজ।
হাসি-ঠাট্টার আড়াল জুড়ে জমে থাকে তাদের অভিমান,
আমি শুধু ভাবি, আর কত শুনব তাদের সেই দুষ্টুমির গান?
মা ছাড়া ঘর যে কতটা ফাঁকা, বোঝে না তো জনে জনে,
বউ এলে নাকি ঘর আলো হয়, সেই আশাই রয় মনে।
সংসারে আমি লক্ষ্মী ছেলে, ভাঙিনি ঘরের নীতি,
পাড়ার সবাই বলে এখন, “রমজানের বিয়ে হওয়া উচিতই!”
তবু আছি পথ চেয়ে আমি, খুঁজি নেক ও দ্বীনদার নারী,
দ্বীনদার পাত্রী পেলেই আমি যে দেবো গো তার মনে পাড়ি।
আল্লাহর হুকুম যেদিন হবে, বসবে বিয়ের আসর,
উজাড় করে দেবো সেদিন তাকে আমার ভালোবাসার ঘর।
দোয়া করি রবের দরবারে, পূরণ হোক আমার এ আশা,
সুখ আর শান্তিতে গড়ে উঠুক সংসারে আমাদের ভালবাসা।
সবার কাছে একটাই প্রত্যাশা করি,দোয়া করবেন আমার জন্য,
বিয়েটা যেন হয় তাড়াতাড়ি।