
গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী ইউনিয়নে অবসরপ্রাপ্ত নারী সেনাসদস্য আয়েশা আক্তারকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনী অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ।
সোমবার (১০ আগস্ট) সংগঠনটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পিরুজালী ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহ আলম খলিফার বিরুদ্ধে অবসরপ্রাপ্ত নারী সেনাসদস্য আয়েশা আক্তারকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হলেও অভিযুক্তকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
এদিকে বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মোসলেম নিহত হওয়ার ঘটনাতেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় সামরিক কর্মকর্তা কর্নেল জাকিরকে হেনস্তা ও কথিত মব জাস্টিসের শিকার হওয়ার অভিযোগের বিষয়টিও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় ওঠা বিভিন্ন অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে সংগঠনটি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবের কারণে স্থানীয় পর্যায়ে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলতে পারছে না—এমন অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনী অধিকার পরিষদ বলেছে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন, অবসর জীবনে তাদের ওপর হামলা, শ্লীলতাহানি, নির্যাতন বা হয়রানির ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে দেশের ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে গাজীপুরের নারী সেনাসদস্যের ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব উল্লেখ করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনী অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ।