
শেখ রমজান হাসান নূর
নিজস্ব প্রতিবেদক|যায়যায় সময়
গাজীপুরের শ্রীপুরে একই দিনে এক পরিবারের দুই সদস্যের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শ্রীপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আনিছুর রহমান (৬৭) রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার মৃত্যুর খবর শুনে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন তার ছোট বোন রাশিদা খানম।
রোববার (৭ জুন) দুপুরে ঢাকার শিপ ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মো. আনিছুর রহমানের মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ছোট ভাই মো. হাফিজুর রহমান।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন আনিছুর রহমান। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কয়েকদিন আগে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)-তে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। রোববার দুপুরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে।
মো. আনিছুর রহমান গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাধখলা গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে। তিনি টানা চারবার শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি তিনি গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকসহ দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তার ছোট ভাই মো. হাফিজুর রহমান জানান, ভাইয়ের মৃত্যুর সংবাদ পরিবারের সদস্যদের জানানো হলে ছোট বোন রাশিদা বেগম গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের সদস্যরা ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে উল্লেখ করেছেন।
একই দিনে ভাই-বোনের মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের মাতম নেমে আসে। খবর ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক, সামাজিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেন। অনেকেই আনিছুর রহমানের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও জনপ্রতিনিধিত্বমূলক কর্মকাণ্ডের কথা স্মরণ করে তার অবদানের কথা তুলে ধরেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মরহুম মো. আনিছুর রহমানের ও তার বোন মরহুমা রাশিদা খানমের জানাজার নামাজ আগামী ৮ জুন (সোমবার) সকাল ১১টায় শ্রীপুর উপজেলার মাধখলা গ্রামে তার নিজ বাড়ি সংলগ্ন মালালা ইংলিশ এডুকেশন স্কুল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনায় সকলের কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।