
এম এ এইচ শাহীন
সিলেট প্রতিনিধি:
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা,
পোষ্ট অফিস-৩১৪০ এ উদ্যোক্তা নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ। অফিসের ই- সেন্টারের উদ্যোক্তা আল আমিন, কে সরকারী নিয়মের বাইরে বড় রকমের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি অভিযোগ কারীদের। তারা আরো বলেন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের সমর্থক আল আমিন কে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা
পোস্ট অফিস ই-সেন্টার থেকে সরিয়ে নিতে ইতিমধ্যে ডাক বিভাগের মহাপরিচালক বরাবর,ও সিলেটের পোস্ট অফিস প্রধানকে অবগত করে এই অভিযোগটি দেন উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি ডা.নুরুল আমিন,সমাজকর্মী আব্দুল কাইয়ুম,মানবাধিকার কর্মী ছালেহ আহমদ,হোসাইন আহমদ,রামচরণ দাস, নুরুল ইসলাম,হোসেন আহমদ নবী,কবির হোসেন, শরীফ আহমদ,সাজ্জাদ প্রমুখ।
ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকারের ‘একসেস টু ইনফরমেশন’ কর্মসূচির আওতায়। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পোষ্ট অফিসে ই-সেন্টারের কার্যক্রম চালু করা হয়। এখানে ভর্তিতে কোন ফি না থাকলে ও প্রশিক্ষক ১০০ টাকা এবং প্রোগ্রামে ৪শ’ টাকার পরিবর্তে ৫০০ টাকা গ্রহণ করায় প্রশিক্ষনার্থীরা এ প্রশিক্ষণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।
ফলে ভেস্তে যাচ্ছে সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য। তথ্য অনুসন্ধান কালে আরো জানা গেছে, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পোষ্ট অফিসের ই-সেন্টারের উদ্যোক্তা হিসাবে ২০১৮ সালে নিয়োগ পান সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা, আল আমিন নামের একজন। অথচ সরকারি নীতিমালায় নিয়োগ দানে পোস্ট অফিস এরিয়ার সন্নিকটে বসবাসকারী স্হানীয় নাগরিকের অগ্রাধিকার। অভিযুক্ত উদ্যোক্তা আল আমিন বলেন আমি জকিগঞ্জের বাসিন্দা
সত্যি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পোস্ট অফিসের কাজে নিয়োগ পাই । জেলা ডাক বিভাগের মাধ্যমে এই উপজেলায় যোগ্য লোক না থাকার কারনে আমাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগকারী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ডা. নুরুল আমিন জানান, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ডাকঘরে বিগত সরকারের আমলে দলীয়ভাবে আওয়ামী গরানার লোক বিধি বহির্ভূতভাবে নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে উদ্যোক্তা নিয়োগ দেয়া হয়। বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দাদের মধ্যে অনেক ছেলে মেয়ে,সিলেট বিভাগীয় অফিসে নিয়োগের জন্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ভালো ফলাফল করার পরেও। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্থায়ী বাসিন্দাদের মধ্য থেকে কাউকে নিয়োগ না দিয়ে। জকিগঞ্জের বাসিন্দা আল আমিন কে নিয়োগ প্রদান করে উপজেলাবাসীর সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে। এখানে বড় ধরনের জালিয়াতি ও দূর্নীতি সম্ভাবনা রয়েছে।
এই নিয়োগের প্রতিবাদে সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। আওয়ামী সরকার পতনের পরে বর্তমান ডাক-টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের উপদেষ্টা বরাবর, অভিযোগ দায়ের করেও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলাবাসী ন্যায় বিচার পায়নি। আমাদের ছেলে মেয়েদেরকে বঞ্চিত করা হয়েছে। শিক্ষিত বেকার যুবকদের মনের চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে যে কোন সময় এর বহিঃপ্রকাশ ঘটতে পারে।তারপর ও বহাল তবিয়তে রয়েছেন জকিগঞ্জের আল আমিন। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পোষ্ট মাস্টার অমর চাঁন,জানান, ই-সেন্টারের আয়ের ৮০ ভাগ প্রশিক্ষক পেয়ে থাকেন আর ২০ ভাগ সরকারী কোষাগারে জমা হওয়ার বিধান রয়েছে।উদ্যোক্তা আল আমিন কে নিয়োগদানে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই।
এ ব্যাপারে সিলেট ডাক বিভাগের ডেপুটি পোস্ট মাস্টার জেনারেল (ডিপিএমজি)
ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি জানলাম আমি ছুটিতে আছি। ডাক বিভাগ সিলেটের বিভাগীয় অফিস সুপার মলয় কান্তি দাস, এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন ২০১২ সালের “স্মার্ট পয়েন্ট উদ্যোক্তা” সেটা বাতিল হয়েছে অনেক আগে। বর্তমানে আল আমিন,ই-সেন্টার উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছে। বিষয়টি তদন্তে আমি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ডাকঘর পরিদর্শনে যাব।
তদন্ত করে বিষয়টি দেখা হবে এভাবে সরকারী নিয়মের বাইরে সে অতিরিক্ত টাকা নিলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।