
নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর:
গাজীপুর সদর উপজেলার বাঘেরবাজার এলাকায় বিএনপি’র দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা ও পাল্টাপাল্টি মামলার ঘটনায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত ১১ জুলাই বিকেলে। বাঘেরবাজার সাফারি পার্ক সড়কের একটি অটোরিকশা স্ট্যান্ডে চাঁদা আদায়ের বিরোধকে কেন্দ্র করে রাফিদ মিয়া (১৬), দেলোয়ার হোসেন (৪৫) ও রাকিব সরকার (২৩) নামে তিনজন মারধরের শিকার হন।
অভিযোগে বলা হয়, দেলোয়ার হোসেনকে বিএনপি নেতা ইসলাম উদ্দিনের গুদামে আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হয় এবং তার কাছে থাকা টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে এবং আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পর ভাওয়ালগড় ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল্লাহসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে জয়দেবপুর থানায় মামলা হয়। মামলার প্রধান আসামি ইসলাম উদ্দিন, যিনি গাজীপুর সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই জমি দখল ও চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
এর প্রতিক্রিয়ায় ইসলাম উদ্দিনের সমর্থকরা ১৭ জুলাই মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। তারা অভিযোগ করেন, পুলিশ কোনো তদন্ত ছাড়াই উদ্দেশ্যমূলকভাবে মামলাটি গ্রহণ করেছে। একইসাথে তারা জয়দেবপুর থানার ওসি তৌহিদ আহমেদকে প্রত্যাহারের দাবি জানান।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয় ২০ জুলাই। ওইদিন ইসলাম উদ্দিনের বিরোধী গ্রুপের পক্ষ থেকে বানিয়ারচালা গ্রামের জোসনা বেগম পাল্টা মামলা করেন। মামলায় সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ইউনুছ আলী ওরফে নছ মিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক জসিম তাজসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় জোসনার স্বামী শাহজাহান আলী ও প্রতিবেশী মিয়ার উদ্দিনের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। হামলায় সুমন মিয়াকে হত্যাচেষ্টা করা হয় এবং মিয়ার উদ্দিনের কাছ থেকে ১৯ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
একাধিক মামলা ও পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির ফলে বাঘেরবাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে অটোরিকশা চালকরা ভয় ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, কেউ কেউ রুটে গাড়ি চালানো বন্ধ করে দিয়েছেন।
জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদ আহমেদ বলেন, “উভয় মামলাই তদন্তাধীন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধে আমরা বাঘেরবাজার এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছি। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএনপি’র অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বই এই সংঘাতের মূল কারণ। এর ফলে দলের ভাবমূর্তি যেমন ক্ষুণ্ন হচ্ছে, তেমনি সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
নির্বাচনের প্রাক্কালে এমন রাজনৈতিক উত্তেজনা স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহলের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছেন এলাকাবাসী।