
শেখ রমজান হাসান (নূর)
নিজস্ব প্রতিবেদক | যায়যায় সময়
শিক্ষকতা শেষ করে ছয় মাস আগে অবসরে গেছেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞানের শিক্ষক আব্দুস সাত্তার বিএসসি। কিন্তু অবসরোত্তর পাওনা অর্থ পেতে এখনও পর্যন্ত পেনশন প্রক্রিয়ায় আবেদন করতেই পারেননি তিনি। কারণ, প্রয়োজনীয় প্রত্যয়নপত্র দিচ্ছেন না বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী মুনসুর মানিক।
এ প্রসঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত ওই শিক্ষক কিছুদিন আগে একটি ভিডিও বার্তায় নিজের ক্ষোভ, হতাশা ও দুর্ভোগের কথা প্রকাশ করেন, যা পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ফেসবুক ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে ভাইরাল হয় এবং এ নিয়ে এলাকাবাসী, শিক্ষাব্যবস্থার সংশ্লিষ্টজন এবং সচেতন নাগরিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আলোচনার ঝড় উঠে।
ভিডিওতে আব্দুস সাত্তার জানান, পেনশনের আবেদন করতে না পারায় তিনি চরম অর্থনৈতিক ও মানসিক চাপে ভুগছেন এবং প্রধান শিক্ষকের কাছে বারবার অনুরোধ করেও কোন সাড়া পাননি। এ বিষয়ে তার বেদনাবিধুর মুখের কথা এবং অসহায় কণ্ঠস্বর হাজারো মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
ব্রেন স্ট্রোক করে হাসপাতালে ভর্তি
ভাইরাল হওয়া ভিডিওর কয়েকদিনের মধ্যেই মানসিক চাপ ও হতাশাজনিত কারণে গতকাল তিনি ব্রেন স্ট্রোক করেন। বর্তমানে তিনি রাজধানীর একটি হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরিবার বলছে, এই অনিশ্চয়তা ও অবহেলাই তার শারীরিক অবনতির মূল কারণ।
বিদ্যালয়ে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ
স্থানীয় শিক্ষক ও অভিভাবকরা জানান, প্রধান শিক্ষক আলী মুনসুর মানিক দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন। নিজের আত্মীয়-স্বজন দিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীর পদ পূরণ, প্রবীণ শিক্ষকদের প্রতি অবজ্ঞা, এবং প্রশাসনিক দায়িত্বে স্বেচ্ছাচারিতার বহু অভিযোগ থাকলেও এ পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
মানবিকতা প্রশ্নবিদ্ধ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি
একজন শিক্ষক অবসরের পর তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে মানসিক চাপ ও শারীরিকভাবে ভেঙে পড়লে, সেটি শুধু একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, বরং গোটা শিক্ষাব্যবস্থার এক অমানবিক চিত্র।
এ ঘটনায় প্রশাসনের নীরবতা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
তদন্ত দাবি এবং প্রধান শিক্ষকের অপসারণের দাবিও উঠছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচিত এই ঘটনায় অনেকেই লিখেছেন, “এটি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না, যেন একটি ব্যক্তিগত সম্পত্তি চালানোর জায়গা হয়ে গেছে।”
এলাকাবাসী, শিক্ষক সমাজ ও সচেতন মহল প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি, পেনশন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন।
—শিক্ষককে শুধু পাঠদাতা নয়, সমাজের আলোকবর্তিকা হিসেবে দেখা হয়। তার জীবন যদি এমন অবজ্ঞা ও অমানবিকতার শিকার হয়, তাহলে সেটি গোটা সমাজের জন্যই লজ্জাজনক ও চিন্তার বিষয়।