
নিজস্ব প্রতিবেদক /যায়যায় সময়
নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী বলেছেন, গত এক বছরেও দেশ ‘লাশের রাজনীতি’ থেকে মুক্তি পায়নি। আজ শুক্রবার রাজধানীর তোপখানা রোডস্থ বিজয় মিলনায়তনে আয়োজিত ‘জুলাই থেকে জুলাই: কী পেয়েছে বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মোমিন মেহেদী বলেন, “৫ আগস্টের আন্দোলনের সময় জনগণ আশা করেছিল লাশের রাজনীতি বন্ধ হবে, কিন্তু তার পরিবর্তে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হয়েছে। এক জুলাই থেকে আরেক জুলাই এসেও এই পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি।” তিনি গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “ছাত্ররা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিমুখ, শিক্ষকরা রাজনীতিমুখী, ব্যবসায়ীরা জনগণকে ঠকাতে ব্যস্ত, রাজনীতিকদের একটি অংশ সহিংসতা করে হলেও টাকা-ক্ষমতার পিছে ছুটছে। এর মাঝখানে নিম্নবিত্ত-মধ্য নিম্নবিত্তরা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি-দুর্নীতি-সন্ত্রাস-চাঁদাবাজীর কষাঘাতে জর্জরিত। দেখার কেউ নেই, শোনার কেউ নেই।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি চক্র একটি বিশেষ জেলার মানুষের প্রতিবাদের কারণে সেই জেলার নাম মানচিত্র থেকে মুছে দিতে চাইছে।
মোমিন মেহেদী আরও জানান, মৃত্যুর পাশাপাশি লক্ষাধিক চুরি-ডাকাতির ঘটনা এবং সাড়ে ৪ হাজারেরও অধিক ধর্ষণ-নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে, যার ১০ ভাগও রাজনৈতিক কারণে আইন-আদালত বা গণমাধ্যমে আসেনি। তিনি ২০১৮ সালে ফ্যাসিবাদী সরকারের রোষানলে পড়ে গুমের শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমরা এক ফ্যাসিস্ট থেকে মুক্তি পেতে গিয়ে আরেক ফ্যাসিস্টের কবলে পড়েছি। দেশের মানুষের মুক্তির সকল পথ আজ বন্ধ।”
মোমিন মেহেদী বলেন, দেশ এখন রেমিটেন্সের ওপর ভিত্তি করে চলছে। তিনি সম্প্রতি আশিক চৌধুরী নামক এক ব্যক্তির গুণগান গেয়ে গণমাধ্যমকে ক্লান্ত করে ফেলার সমালোচনা করেন এবং শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. ইউনূসের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, “কোথায় আজ শান্তিতে নোবেলজয়ী ইউনূস, সারাদেশে যখন অশান্তির আগুন?”
তিনি হুঁশিয়ারি দেন, অবিলম্বে বাংলাদেশের মানুষের জন্য ন্যায়ভিত্তিক জীবন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ না নিলে সাধারণ মানুষ ‘প্রতিবিপ্লবের’ পথে অগ্রসর হবে। তখন জনগণ কোনো বিদেশী ইউটিউবার, প্রবাসী নেতা বা ধর্মকে পুঁজি করে রাজনীতিতে সফল হওয়ার অপচেষ্টাকারী দলগুলোর ফাঁকা আওয়াজে কান দেবে না। তারা নিজেদের রাষ্ট্রীয় সমতা প্রতিষ্ঠায় স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব-ধর্ম-মানবতা-সুশিক্ষা-সভ্যতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় নিজেরাই নিবেদিত নেতৃত্ব বেছে নেবে।