1. : admin :
সোহরাওয়ার্দীতে জনসমুদ্র: পাল্টাচ্ছে রাজনীতির ধরণ? - যায়যায় সময়
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
🎉 আপনার জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাবে যায়যায় সময়! গাজীপুরের ভবানীপুরে ব্রিফকেস থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার গাজীপুর সদর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন জামিনে মুক্ত। ভুক্তভোগী শিশুদের ট্রমা কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে গাজীপুরে কেয়ারগিভারদের বিশেষ প্রশিক্ষণ গাজীপুর সদরে গরিব নারীদের সেলাই মেশিন, শিক্ষার্থীদের সাইকেল, ছাতা, স্কুলব্যাগ ও শিক্ষাবৃত্তি প্রদান গাজীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বাঘের বাজার ও ভবানীপুর বাজারে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ মুক্তিযোদ্ধা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফার্জিনা ইয়াসমিনকে ছাত্রদলের ফুলেল শুভেচ্ছা ইজ্জতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাচিত -জুয়েল রানা গাজীপুরে ছাঁটাই শ্রমিকদের পুনর্বহাল ও মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন নারী সেনাসদস্যের ধর্ষণ চেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষুব্ধ অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনী অধিকার পরিষদ

সোহরাওয়ার্দীতে জনসমুদ্র: পাল্টাচ্ছে রাজনীতির ধরণ?

শেখ রমজান হাসান (নূর) | নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: রবিবার, ২০ জুলাই, ২০২৫
  • ৩০৩ বার পড়া হয়েছে

শেখ রমজান হাসান (নূর)

নিজস্ব প্রতিবেদক। যায়যায় সময় 

গতকাল রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত জনসভায় লাখো মানুষের উপস্থিতি আর শৃঙ্খলার নজির নতুন এক রাজনৈতিক বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন উপস্থিত সাধারণ জনগণ। খিলগাঁও থেকে রমনা পর্যন্ত, এমনকি শিশুপার্কের ভেতর দিয়েও উদ্যানে পৌঁছানো ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং, কারণ প্রতিটি প্রান্তে ছিলো মানুষের ঢল।

একজন তরুণ মেরিন প্রকৌশলী, যিনি এর আগে ৫ আগস্ট বিএনপির জনসভাতেও উপস্থিত ছিলেন—তিনি আজকের সমাবেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে। তার ভাষায়, “আমি গিয়েছিলাম রাজনৈতিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে। কর্মী কিংবা সমর্থক হিসেবে নয়।”

তিনি জানান, “মৎস্য ভবন পর্যন্ত গিয়ে আমি বুঝতে পারি, আজকের জনসভায় মানুষ এসেছে দেশ, রাজনীতি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে। বিশাল স্ক্রীনে বক্তব্য চলাকালে উপস্থিত সবাই গভীর মনোযোগে তা শুনছিলেন। কর্মীদের শৃঙ্খলা, স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্ববোধ এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা আমাকে মুগ্ধ করেছে।”

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, উদ্যানে ছিল ১২টি বড় স্ক্রীন, খাবার পানি, ওযু এবং নামাজের ব্যবস্থা, মেডিকেল বুথ, অস্থায়ী ওয়াশরুম—সবই ছিলো গোছানো। পুরো সমাবেশে পুলিশের সরাসরি উপস্থিতি না থাকলেও কোথাও বিশৃঙ্খলা দেখা যায়নি। অনুষ্ঠান ছিল সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত ও সুশৃঙ্খল।

বক্তব্য দিয়েছেন বিভিন্ন ধর্ম ও রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতিনিধিরা। হিন্দু ঐক্যজোটের মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিকের বক্তব্যে জনসাধারণের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া ছিলো লক্ষ্য করার মতো। এমন পারস্পরিক সম্মানবোধের দৃশ্য বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিরল বলে মনে করছেন অনেকেই।

সমাবেশের শেষ বক্তব্য দেন আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান। অসুস্থতার কারণে পড়ে গেলেও বসে বসেই বক্তব্য চালিয়ে যান তিনি। উপস্থিত নেতাকর্মীরা মঞ্চে তার পাশে বসে পড়লে, মানবিকতা ও ঐক্যের এক দৃশ্য সৃষ্টি হয়।

অতিথি ওই মেরিন প্রকৌশলী বলেন, “আমি দেখেছি এক ৭০ বছর বয়সী নেতার ঈমানী শক্তি, শৃঙ্খলা, আর জনগণের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক চেতনার উন্মেষ। মনে হলো, রাজনীতির ধরণ বদলাতে শুরু করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “যেমনটি বিএনপির সমাবেশে গিয়ে খেয়াল করেছিলাম, সেখানে বক্তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিলো ব্যানার, পোস্টার আর নেতাদের ‘পজিশন’—আজকের জনসভায় তেমন কিছুই ছিল না। এখানে বক্তব্যই ছিল মূল বিষয়।”

দিন শেষে লক্ষাধিক মানুষ যেভাবে সুশৃঙ্খলভাবে ফিরে গেছে, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক ইতিবাচক বার্তা বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Theme Customized BY LatestNews
ভাষা পরিবর্তন করুন »