
নিজস্ব প্রতিবেদক:
যায়যায় সময়.কম
গাজীপুরের আলোচিত নারী নেতা, জেলা মহিলা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য শাহীদা আক্তার জসুদাকে গ্রেপ্তার করেছে জয়দেবপুর থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (১৩ মে) রাত ২টার দিকে উত্তর ছায়া বিথী এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
শাহীদা আক্তার জসুদা গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর এলাকার শান্তি চরণের কন্যা। জনপ্রতিনিধি হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করছিলেন ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য হিসেবে।
পুলিশ জানায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত একটি শিশু হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি জসুদা। এছাড়া তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, সরকারি বনভূমি দখল, গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে ভাঙচুর ও শ্রমিকদের উস্কে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
জয়দেবপুর থানার ওসি আব্দুল হালিম বলেন, “জসুদা শুধু শিশুহত্যা মামলার আসামিই নন, বিভিন্ন সময়ে গাজীপুরে অস্থিরতা তৈরির পেছনেও তার ভূমিকা ছিল। প্রাথমিকভাবে তার বিরুদ্ধে পাওয়া তথ্যগুলো আমরা যাচাই করে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
তবে শুধু অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নয়—স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, শাহীদা আক্তার জসুদা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে তাদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে দীর্ঘদিন হয়রানি করেছেন। একাধিক নেতাকর্মীর নামে নাশকতা, মাদক এবং রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমের অভিযোগ তুলে মামলা করার নেপথ্যে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয়দের মতে, এক সময় সমাজসেবী ও নারী নেতৃত্বে অগ্রগামী হিসেবে পরিচিত ছিলেন জসুদা। শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানো, গরিবদের সাহায্য করায় তিনি ‘মমতাজ খ্যাত’ হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার, ব্যবসা ও দখলবাজিতে তিনি জড়িয়ে পড়েন।
তিনবার ইউপি নির্বাচন এবং একবার উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেওয়া এই নারী নেত্রীর গ্রেপ্তার গাজীপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। তার বিরুদ্ধে এখন একের পর এক অভিযোগ উন্মোচিত হচ্ছে—যার মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন, প্রশাসনের ব্যবহার এবং অপরাধচক্রের সঙ্গে যোগাযোগ।
শাহীদা আক্তার জসুদার এই পরিণতি কেবল একজন নেত্রীর পতন নয়, বরং এটি স্থানীয় রাজনীতির মূল্যবোধ ও নারী নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলছে।