1. : admin :
কিশোরগঞ্জে হাওরে জিরাতিদের কষ্টের জীবন - যায়যায় সময়
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
🎉 আপনার জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাবে যায়যায় সময়! গাজীপুরের ভবানীপুরে ব্রিফকেস থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার গাজীপুর সদর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন জামিনে মুক্ত। ভুক্তভোগী শিশুদের ট্রমা কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে গাজীপুরে কেয়ারগিভারদের বিশেষ প্রশিক্ষণ গাজীপুর সদরে গরিব নারীদের সেলাই মেশিন, শিক্ষার্থীদের সাইকেল, ছাতা, স্কুলব্যাগ ও শিক্ষাবৃত্তি প্রদান গাজীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বাঘের বাজার ও ভবানীপুর বাজারে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ মুক্তিযোদ্ধা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফার্জিনা ইয়াসমিনকে ছাত্রদলের ফুলেল শুভেচ্ছা ইজ্জতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাচিত -জুয়েল রানা গাজীপুরে ছাঁটাই শ্রমিকদের পুনর্বহাল ও মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন নারী সেনাসদস্যের ধর্ষণ চেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষুব্ধ অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনী অধিকার পরিষদ

কিশোরগঞ্জে হাওরে জিরাতিদের কষ্টের জীবন

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৫
  • ১৪৮ বার পড়া হয়েছে

মোঃ হাবিব মিয়া হাওরাঞ্চল (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:

কিশোরগঞ্জের নিকলী,মিঠামইন, ইটনা ও অষ্টগ্রাম এ ৪ টি উপজেলা বিস্তীর্ণ হাওর জুড়ে বরো ধানের সমারোহ। যত দূর চোখ যায় যেন সোনালী ধানের সাম্রাজ্য। এই সাম্রাজ্য গড়তে গহীন হাওরের বছরের অর্ধেক সময় জুড়ে পড়ে থাকে একদল মানুষ। স্থানীয় ভাবে এরা জিরাতি নামে পরিচিত, মূলত কৃষি শ্রমিক।বরো মৌসুমে হাওরে ছোট ছোট কুঁড়ে ঘর বানিয়ে বসবাস করেন জিরাতিরা।আশেপাশে কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে গাছপালা কিংবা ছায়া নেই। কিশোরগঞ্জের নিকলী,মিঠামইন, ইটনা ও অষ্টগ্রাম এ ৪ টি হাওর উপজেলা কার্তিক থেকে বৈশাখ মাস পর্যন্ত অস্থায়ী ভাবে গলাঘরে বসবাস করেন বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৩৬ হাজার জিরাতি।

লোকালয় থেকে বহুদূরে অবস্থিত কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন হাওরের অস্থায়ী ঘর তৈরি করে বসবাস করছেন হাজার হাজার কৃষক। ‘জিরাতি’ নামে পরিচিত এসকল কৃষক গবাদিপশুর সাথে গাধাগাধি করে ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে ব্রজপাতের ঝুঁকির মধ্যেই কষ্টে বোনা ফসল ঘরে তুলতে দিন রাত পরিশ্রম করে। হাওরে ধান ক্ষেতের মাঝখানে চোখে পড়বে ছোট ছোট এসব কুঁড়ে ঘর।সামান্য উঁচু জমিতে তৈরি এসব অস্থায়ী ঘরে বাস করেন কয়েকশো কৃষক। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বছরের ৬ মাস জীবন যুদ্ধে মাঠে পড়ে থাকেন হাজার হাজার কৃষক। গবাদি পশুর সঙ্গে রাত কাটান তারা।এসব মানুষের নেই বিশুদ্ধ পানির ব্যাবস্থা,স্বাস্থ্য সমস্ত পায়খানার টয়লেট কিংবা রাতে ঘুমানোর মত জায়গা।

বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা গেছে, ছোট কুঁড়ে ঘরে বসবাস করা জিরাতিরা ঘরের মাচায় স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে ঘুমান।মাচার নিচে রাখা হয় গবাদিপশু। চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে বসবাস করা এসব মানুষের ভাগ্যে ঝুটে না পুষ্টিকর খাবার। বেশির ভাগ ক্ষেএেই মোটা ভাত আর মরিচ ভর্তা কিংবা পান্তা ভাত দিয়ে চলে। নেই বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যাবস্থা।প্রাকৃতিক কাজ সারতে হয় ক্ষেতের আইলে। আছে শীলা বৃষ্টি, বজ্রপাতসহ নানান প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা।

বড় হাওরের কৃষক কাউসার মিয়া জানান,সব কিছু তুচ্ছ করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কৃষকরা বছরের ৬ টি মাস পরে থাকেন হাওরে।নিজেদের ঘর বাড়ি, আত্মীয় স্বজন ফেলে কার্তিক মাসে তারা পাড়ি জমায় হাওরে।জমি তৈরি করা,চারা রোপন,সেচ পরিচর্যা থেকে শুরু করে ধান কাটা,মাড়াই, জাড়াই শেষে নতুন ধান সঙ্গে নিয়ে জৈষ্ঠ মাসে বাড়ি ফিরেন তারা।ফলন ভালো হলে মুখে হাসি ফুটে।ভুলে যান পিছনের দুঃখ কষ্ট। আবারও প্রস্তুতি নেন পরের বছর হাওরে যাওয়ার জন্য।

নিকলী উপজেলা কৃষি অফিসার সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ৬ মাস হাওরের খাদ্য, পানীয় ও স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে তারা কৃষিতে আরও বেশি ভূমিকা রাখতে পারবেন এবিষয় নিয়ে তিনি উপর মহলে কথা বলবেন বলে জানান।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Theme Customized BY LatestNews
ভাষা পরিবর্তন করুন »