
শেখ রমজান হাসান নূর
নিজস্ব প্রতিবেদক| যায়যায় সময়
গাজীপুরের জয়দেবপুরে অবস্থিত বানিয়ারচালা কমিউনিটি ক্লিনিকে চরম অব্যবস্থাপনা, অবহেলা ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে চিকিৎসাসেবা। সম্প্রতি ক্লিনিকের ছাদ থেকে বৈদ্যুতিক পাখা (সিলিং ফ্যান) খুলে পড়ে একজন রোগী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত স্বাস্থ্য সহকারী ও সিএইচসিপি কর্মরত থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। ২২ জুলাই মঙ্গলবার সকালে ক্লিনিকে উপস্থিত রোগীরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করলেও স্বাস্থ্য সহকারী মতিউর রহমান আসেন দুপুর ১২টা ৪৬ মিনিটে এবং সিএইচসিপি হামিদা আলী আসেন সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে।
ক্লিনিকের পরিবেশ অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর। ভেতরে-বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে কুকুর, ছাগলসহ নানা ধরনের পশু। নেই নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা। ভবনটিও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ — সিলিং থেকে প্লাস্টার খসে পড়ছে, ছাদে ফাটল, এবং সম্প্রতি বৈদ্যুতিক পাখা খুলে পড়ে রোগী আহত হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সিএইচসিপি হামিদা আলী বলেন, “পর্যাপ্ত ঔষধ না থাকায় আমরা অনেক সময় রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা জেলা সদর হাসপাতালে পাঠাতে বাধ্য হচ্ছি। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে প্রতিদিন চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে আমরা নিজেরাও আতঙ্কে থাকি, রোগীরাও ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।”
স্বাস্থ্য সহকারী মতিউর রহমান বলেন, “পরিচ্ছন্নতাকর্মী না থাকায় ক্লিনিক পরিষ্কার রাখা কঠিন। আগে ক্লিনিকের প্রধান গেটে দরজা ছিল না, আজ তা সংযোজন করা হয়েছে। পশুর প্রবেশও আমরা থামাতে পারছিলাম না।”
এ বিষয়ে গাজীপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্যানিটারি, নিরাপদ খাদ্য ও প্রসিকিউশন অফিসার মো. মিজানুর রহমান বলেন, “আমি নিয়মিত ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন করি। আজ বানিয়ারচালা কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখেছি। দ্রুত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভবনের ঝুঁকিও পরিদর্শনে ধরা পড়েছে।”
তিনি আরও জানান, “এখানে প্রায় ২৩ ধরনের ঔষধ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। তবে এখন ভাইরাস জ্বরের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে, তাই সচেতনতা বাড়ানো ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”
স্থানীয় জনসাধারণ, স্বাস্থ্য সহকারী ও সিএইচসিপি সকলেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি দ্রুত সংস্কার করে নিরাপদ ও পরিবেশসম্মত একটি আধুনিক কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন।
এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করছে স্থানীয় বাসিন্দারা।