
নিজস্ব প্রতিবেদক:
যায়যায় সময়
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার ষড়যন্ত্রের মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাংবাদিক শফিক রেহমান আপিলের মাধ্যমে খালাস পেয়েছেন। ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ তারিক এজাজের আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।
মামলার শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে জানিয়েছে, শফিক রেহমান খালাস পেলে তাদের কোনো আপত্তি নেই। রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ খলিলুর রহমান বলেন, “এটা রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা। তিনি একজন প্রথিতযশা সাংবাদিক। খালাস দিলে আমাদের আপত্তি নেই” ।
এর আগে, ২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান নূরের আদালত শফিক রেহমানসহ পাঁচজনকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন: দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সহসভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ মামুন, তাঁর ছেলে রিজভী আহমেদ ওরফে সিজার এবং যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান ভূঁইয়া ।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরের আগে থেকে বিএনপি ও তার সহযোগী দলের নেতারা সজীব ওয়াজেদ জয়কে যুক্তরাষ্ট্রে অপহরণ করে হত্যার ষড়যন্ত্র করেন। এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের জন্য রিজভী আহমেদ এফবিআইয়ের এক কর্মকর্তাকে ঘুষ দিয়ে জয়ের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করেন ।
মামলার তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০২২ সালের ১৩ নভেম্বর সজীব ওয়াজেদ জয় আদালতে সাক্ষ্য দেন।
সাংবাদিক শফিক রেহমানের খালাসের মাধ্যমে মামলাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান ঘটলো। মামলার অন্যান্য আসামিদের আপিল প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এই রায়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে শফিক রেহমানের খালাসকে ন্যায়বিচারের বিজয় হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও মন্তব্য করছেন।
সাংবাদিক সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো শফিক রেহমানের খালাসকে স্বাগত জানিয়েছে এবং ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের হয়রানি থেকে রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছে।
এই মামলার আপিল রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।