1. : admin :
কিশোরগঞ্জে হাওরে জিরাতিদের কষ্টের জীবন - যায়যায় সময়
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৩৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কালীগঞ্জে নরুণ উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হলেন সিনিয়র সাংবাদিক শাহ্ সামসুল হক রিপন সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক জহিরুলকে মামলায় জড়ানোর অভিযোগ গাজীপুর সদর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার কমিটিতে ক্রীড়ানুরাগী সেলিম ভূঁইয়া সন্ধান চাই: গাজীপুর বানিয়ারচালা থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন উম্মে হানী নিখোঁজ সাংবাদিক মিলন মিয়া’র বাবা মফিজ উদ্দিনের জানাযা রোববার-১১ই অক্টোবর বাদ আসর অনুষ্ঠিত হইবে। সাংবাদিক মিলন মিয়ার বাবা মফিজ উদ্দিনের ইন্তেকালে গাজীপুর সদর উপজেলা প্রেসক্লাবের শোক ঘরের বাইরে তালা, ভেতরে আগুন: গাজীপুরে যুবকের মৃত্যু ঘিরে রহস্য শ্রীপুরে জমি দখলের চেষ্টা, প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ শিরিরচালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেন্টাল বিভাগের নতুন পরিচালক ডা. মোহাম্মদ আলী আকবর পলান

কিশোরগঞ্জে হাওরে জিরাতিদের কষ্টের জীবন

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৫
  • ১৫৮ বার পড়া হয়েছে

মোঃ হাবিব মিয়া হাওরাঞ্চল (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:

কিশোরগঞ্জের নিকলী,মিঠামইন, ইটনা ও অষ্টগ্রাম এ ৪ টি উপজেলা বিস্তীর্ণ হাওর জুড়ে বরো ধানের সমারোহ। যত দূর চোখ যায় যেন সোনালী ধানের সাম্রাজ্য। এই সাম্রাজ্য গড়তে গহীন হাওরের বছরের অর্ধেক সময় জুড়ে পড়ে থাকে একদল মানুষ। স্থানীয় ভাবে এরা জিরাতি নামে পরিচিত, মূলত কৃষি শ্রমিক।বরো মৌসুমে হাওরে ছোট ছোট কুঁড়ে ঘর বানিয়ে বসবাস করেন জিরাতিরা।আশেপাশে কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে গাছপালা কিংবা ছায়া নেই। কিশোরগঞ্জের নিকলী,মিঠামইন, ইটনা ও অষ্টগ্রাম এ ৪ টি হাওর উপজেলা কার্তিক থেকে বৈশাখ মাস পর্যন্ত অস্থায়ী ভাবে গলাঘরে বসবাস করেন বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৩৬ হাজার জিরাতি।

লোকালয় থেকে বহুদূরে অবস্থিত কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন হাওরের অস্থায়ী ঘর তৈরি করে বসবাস করছেন হাজার হাজার কৃষক। ‘জিরাতি’ নামে পরিচিত এসকল কৃষক গবাদিপশুর সাথে গাধাগাধি করে ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে ব্রজপাতের ঝুঁকির মধ্যেই কষ্টে বোনা ফসল ঘরে তুলতে দিন রাত পরিশ্রম করে। হাওরে ধান ক্ষেতের মাঝখানে চোখে পড়বে ছোট ছোট এসব কুঁড়ে ঘর।সামান্য উঁচু জমিতে তৈরি এসব অস্থায়ী ঘরে বাস করেন কয়েকশো কৃষক। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বছরের ৬ মাস জীবন যুদ্ধে মাঠে পড়ে থাকেন হাজার হাজার কৃষক। গবাদি পশুর সঙ্গে রাত কাটান তারা।এসব মানুষের নেই বিশুদ্ধ পানির ব্যাবস্থা,স্বাস্থ্য সমস্ত পায়খানার টয়লেট কিংবা রাতে ঘুমানোর মত জায়গা।

বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা গেছে, ছোট কুঁড়ে ঘরে বসবাস করা জিরাতিরা ঘরের মাচায় স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে ঘুমান।মাচার নিচে রাখা হয় গবাদিপশু। চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে বসবাস করা এসব মানুষের ভাগ্যে ঝুটে না পুষ্টিকর খাবার। বেশির ভাগ ক্ষেএেই মোটা ভাত আর মরিচ ভর্তা কিংবা পান্তা ভাত দিয়ে চলে। নেই বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যাবস্থা।প্রাকৃতিক কাজ সারতে হয় ক্ষেতের আইলে। আছে শীলা বৃষ্টি, বজ্রপাতসহ নানান প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা।

বড় হাওরের কৃষক কাউসার মিয়া জানান,সব কিছু তুচ্ছ করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কৃষকরা বছরের ৬ টি মাস পরে থাকেন হাওরে।নিজেদের ঘর বাড়ি, আত্মীয় স্বজন ফেলে কার্তিক মাসে তারা পাড়ি জমায় হাওরে।জমি তৈরি করা,চারা রোপন,সেচ পরিচর্যা থেকে শুরু করে ধান কাটা,মাড়াই, জাড়াই শেষে নতুন ধান সঙ্গে নিয়ে জৈষ্ঠ মাসে বাড়ি ফিরেন তারা।ফলন ভালো হলে মুখে হাসি ফুটে।ভুলে যান পিছনের দুঃখ কষ্ট। আবারও প্রস্তুতি নেন পরের বছর হাওরে যাওয়ার জন্য।

নিকলী উপজেলা কৃষি অফিসার সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ৬ মাস হাওরের খাদ্য, পানীয় ও স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে তারা কৃষিতে আরও বেশি ভূমিকা রাখতে পারবেন এবিষয় নিয়ে তিনি উপর মহলে কথা বলবেন বলে জানান।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Theme Customized BY LatestNews
ভাষা পরিবর্তন করুন »