
শেখ রমজান হাসান নূর
নিজস্ব প্রতিবেদক | যায়যায় সময়
গাজীপুর সদর উপজেলার বানিয়ারচালা এলাকায় আলমগীর হোসেন (২৩) নামে এক পোশাক শ্রমিকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি নিছক আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে—তা নিয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে বানিয়ারচালা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে জয়দেবপুর থানা পুলিশ।
নিহত আলমগীর হোসেন নেত্রকোনা সদর উপজেলার দিগজান এলাকার মৃত আল আমিন মিয়ার ছেলে। তিনি বানিয়ারচালা এলাকার হাজী রফিকুল ইসলাম মেম্বারের বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে ভাড়া থেকে স্থানীয় এএমসি নীট কম্পোজিট লিমিটেড কারখানায় সুইং অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন। বৃহস্পতিবার সকালে তার নিজ কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
রহস্যের দানা ও জনমনে প্রশ্ন:
পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, আলমগীর গত কয়েকদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন এবং মানসিকভাবে কিছুটা বিপর্যস্ত ছিলেন। তবে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রতিবেশীদের অনেকের মাঝে মৃত্যুটি নিয়ে গভীর সংশয় ও কানাঘুষা চলছে। বিশেষ করে তিনটি বিষয় রহস্যের দানা বাঁধছে:
১. অসুস্থতা বনাম আত্মহত্যা: পরিবারের সদস্যরা দাবি করছেন আলমগীরের কোনো খারাপ নেশা ছিল না। প্রশ্ন উঠেছে, একজন সুস্থ মস্তিষ্কের যুবক কেবল সামান্য শারীরিক অসুস্থতার কারণে দিনের আলোতে আত্মহত্যার মতো চরম পথ বেছে নেবেন কি না?
২. মৃত্যুর সময় ও স্থান: জনাকীর্ণ একটি বাড়িতে দিনের বেলা সবার অগোচরে এই ঘটনাটি ঘটায় স্থানীয়রা বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন।
৩. খোলা দরজা: সবচেয়ে বড় রহস্যের জন্ম দিয়েছে ঘটনার সময় কক্ষের দরজা খোলা থাকার বিষয়টি। আত্মহত্যার ক্ষেত্রে সাধারণত ভেতর থেকে দরজা বন্ধ থাকার কথা থাকলেও, দরজা খোলা অবস্থায় মরদেহ পাওয়া যাওয়ায় এটি পরিকল্পিত কোনো ঘটনা কি না, তা নিয়ে জনমনে তীব্র প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
পরিবার ও পুলিশের বক্তব্য:
নিহতের মা মোসাঃ মাজেদা আক্তার জানান, আলমগীর বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ থাকায় তাকে ডাক্তার দেখানো হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎ করে নিজ রুমে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে আত্মহত্যার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।
এ বিষয়ে জয়দেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নয়ন কুমার যায়যায় সময়কে জানান, “খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয় করার জন্য ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আত্মহত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে।”
তদন্তের অপেক্ষায় এলাকাবাসী:
এলাকাবাসীর দাবি, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং পুলিশের নিরপেক্ষ তদন্তই বলে দেবে এটি পরিকল্পিত কোনো হত্যাকাণ্ড নাকি স্বাভাবিক আত্মহত্যা। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হবে বলে আশা করছে পুলিশ।
এই মৃত্যুকে ঘিরে বানিয়ারচালা এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং নিহতের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।