
শেখ রমজান হাসান নূর
নিজস্ব প্রতিবেদক|যায়যায় সময়
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের শ্রীপুর উপজেলার অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র মাওনা চৌরাস্তা কাঁচাবাজার ও বড়বাজার সংলগ্ন এলাকা এখন যেন এক ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই মহাসড়কের ওপর তৈরি হচ্ছে কৃত্রিম বন্যা। ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকেজো হয়ে পড়ায় শিল্পাঞ্চল অধ্যুষিত এই জনপদে জনভোগান্তি এখন চরমে।
বর্তমান চিত্র: সরেজমিনে দেখা যায়, মাওনা চৌরাস্তা কাঁচামালের আড়ৎ সংলগ্ন মহাসড়কের প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকা হাঁটু পানিতে তলিয়ে আছে। ড্রেনগুলো ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নামার কোনো পথ নেই। নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত এই পানির ওপর দিয়েই চলছে যানবাহন এবং কয়েক হাজার শ্রমজীবী মানুষ। মহাসড়কের মাঝে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিনিয়ত বিকল হচ্ছে ছোট-বড় যানবাহন, সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।
যানজটের ভয়াবহতা: জলাবদ্ধতার কারণে মহাসড়কের এই অংশে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে অফিস সময় ও সন্ধ্যার পরপরই কয়েক কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই জায়গায় আটকে থাকছে পণ্যবাহী ট্রাক, গার্মেন্টস শ্রমিক বহনকারী বাস, অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবার যানবাহন। এতে শিল্পাঞ্চলের উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রোগী পরিবহনেও দেখা দিচ্ছে চরম ভোগান্তি।
ভুক্তভোগীদের বক্তব্য: স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল করিম বলেন, “প্রতিদিনই পানি জমে থাকে। ট্রাক আড়তে ঢুকতে পারে না, ফলে আমাদের সবজি পচে যাচ্ছে। কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়ে গেছে ইতোমধ্যে।”
রিকশাচালক সোহেল মিয়া বলেন, “এই পানির মধ্যে রিকশা চালানো খুব কষ্ট। গর্ত বোঝা যায় না, যেকোনো সময় উল্টে যাওয়ার ভয় থাকে। যাত্রীও উঠতে চায় না।”
গার্মেন্টস শ্রমিক রুবিনা আক্তার বলেন, “প্রতিদিন কাজে যেতে দেরি হয়। বাস এই পানির কারণে আটকে থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এতে বেতন কাটা যায়, চাকরি নিয়েও চিন্তায় থাকতে হয়।”
একজন পথচারী নুর ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটা তো আর নতুন সমস্যা না। বছর বছর একই অবস্থা, কিন্তু কোনো স্থায়ী সমাধান নেই। প্রশাসন শুধু আশ্বাসই দেয়।”
একজন ট্রাকচালক মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, “পানি জমে থাকার কারণে গাড়ি বন্ধ হয়ে যায় মাঝরাস্তায়। তারপর ঠেলে নিতে হয়। এতে সময় নষ্ট হচ্ছে, মালামালও ঠিকমতো পৌঁছানো যাচ্ছে না।”
ব্যবসায়ী ও পথচারীদের হাহাকার: কাঁচামালের আড়তের ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, জলাবদ্ধতার কারণে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ট্রাকগুলো আড়তে ঢুকতে পারছে না। পচে যাচ্ছে কয়েক লাখ টাকার সবজি। বাজারের ভেতর পানি ঢুকে পড়ায় ক্রেতারাও বাজারে আসতে অনীহা প্রকাশ করছেন।
দুর্ভোগের কারণ: স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়কের পাশে থাকা ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করা এবং অবৈধ দখলের কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া সড়কের পাশের শিল্পকারখানাগুলোর বর্জ্য মিশ্রিত পানি এ জলাবদ্ধতাকে আরও প্রকট করে তুলছে।
সমাধানের দাবি: ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার, নিয়মিত পরিষ্কার কার্যক্রম চালু এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে না। স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।