
গাজীপুরের শ্রীপুরে এক ইমামের মেয়েকে অপহরণ, পরিবারের সদস্যদের মারধর এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা হাদিউল ইসলাম (৪৩) ১০ জনের নাম উল্লেখ করে শ্রীপুর থানায় মামলা করেছেন। ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও কিশোরীকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
মামলার অভিযোগ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, হাদিউল ইসলামের মেয়ে ফারিহা (১৬) স্থানীয় একটি মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। একই এলাকার আবিদ (২১) দীর্ঘদিন ধরে তাকে উত্ত্যক্ত করছিল এবং বিভিন্ন সময় কু-প্রস্তাব দিত বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিবার থেকে একাধিকবার নিষেধ করা হলেও সে তা উপেক্ষা করে। একপর্যায়ে অপহরণের হুমকিও দেয় বলে পরিবারের দাবি।
গত ১৫ এপ্রিল সকাল ৮টার দিকে ফারিহা মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে মাওনা ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে আবিদ ও তার সহযোগীরা তাকে জোর করে তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়দের চাপের মুখে পরদিন ১৫ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়।
তবে একই দিন বেলা ১১টার দিকে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ বসলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় আবিদ ও সুমিতসহ প্রায় ১০ জনের একটি দল এবং আরও ২৫ থেকে ৩০ জন অচেনা ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র নিয়ে হাদিউল ইসলামের বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা ঘরের দরজা ভেঙে ফারিহাকে টেনে-হেঁচড়ে বাইরে নিয়ে যায় এবং অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
ঘটনার সময় জাতীয় জরুরি সেবার নম্বর ৯৯৯–এ কল করা হলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্তরা ফারিহাকে নিয়ে পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
ফারিহার বাবা হাদিউল ইসলাম বলেন, ‘মেয়েকে আগে থেকেই উত্ত্যক্ত করা হচ্ছিল। নিষেধ করলেও তারা শোনেনি। প্রথমে অপহরণ করে আবার ফেরত দেয়, পরে দলবল নিয়ে বাড়িতে হামলা চালিয়ে অস্ত্রের মুখে আবার তুলে নিয়ে যায়। আমরা প্রাণভয়ে কিছুই করতে পারিনি। ৪৮ ঘণ্টা পার হয়ে গেছে, এখনও মেয়েকে উদ্ধার করা হয়নি।’
ফারিহার চাচা সায়েম জানান, ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে শ্রীপুর পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শাহজাহান সজলসহ অন্যরা সহায়তার চেষ্টা করেন। তবে তাঁর সামনেই অভিযুক্তরা অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে আবার ফারিহাকে তুলে নিয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, ফারিহার বাবা যে ফেসবুক লাইভে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নাম জড়িয়ে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সঠিক নয় এবং ওই সময় ছাত্রদলের কেউ ঘটনাস্থলে ছিল না।
শ্রীপুর পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শাহজাহান সজল বলেন, ফারিহাকে দ্বিতীয়বার তুলে নেওয়ার সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। প্রথমবার তুলে নেওয়ার পর শ্রীপুর পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহাদাত হোসাইন পাপ্পুসহ কয়েকজন নেতাকর্মী তাকে উদ্ধারে সহায়তা করেন বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছির আহমেদ জানান, তিনি ছুটিতে রয়েছেন এবং বিষয়টি উপপরিদর্শক (এসআই) লাল চাঁন দেখছেন। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে থানার তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং বিস্তারিত পরে জানানো হবে।