
গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর এলাকায় গাঁজা সেবন দেখে ফেলায় মাহবুল ইসলাম রনি (১৩) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর তার মরদেহে আগুন দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত ছাব্বির আহম্মেদ (১৯) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতার ছাব্বির আহম্মেদ ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার তুলন্দর দেওয়ানগঞ্জ বাজার এলাকার আব্দুল বারেকের ছেলে। তিনি বর্তমানে গাজীপুরের ভবানীপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুরে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন ছাব্বির আহম্মেদ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিবিআইয়ের অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামাল এবং গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মোস্তফা কামাল আজাদ।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, নিহত মাহবুবুল ইসলাম রনি পরিবারের সঙ্গে ভবানীপুর এলাকার মোশারফ হোসেনের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন। তিনি খুরশীদিয়া মারকাযুল উলুম কওমি মাদরাসার নাজেরানা বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। রনির বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার দৌলতপুর গ্রামে। তার বাবা সোহাগ স্থানীয় একটি কারখানায় কর্মরত।
পুলিশ জানায়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত প্রায় ৯টার দিকে রনি ভবানীপুর পূর্বপাড়া দারুস সালাম জামে মসজিদে তারাবির নামাজ আদায় করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেয়। কিন্তু এরপর সে আর বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পরিবার জানতে পারে, ভবানীপুর পূর্বপাড়া এলাকার একটি জঙ্গলের ভেতরে আগুনে পোড়া অবস্থায় এক কিশোরের মরদেহ পড়ে আছে। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পোশাক দেখে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি রনির বলে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় নিহত রনির দাদা তারা মিয়া বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর তদন্তের দায়িত্ব নেয় পিবিআই গাজীপুর। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে গত ৫ মার্চ রাতে ভবানীপুর এলাকা থেকে সন্দেহভাজন ছাব্বির আহম্মেদকে গ্রেফতার করে পিবিআইয়ের একটি দল।
পিবিআই জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ছাব্বির স্বীকার করেছেন যে গাঁজা সেবনের সময় রনি তাকে দেখে ফেলায় বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ভয়ে তিনি শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে ঘটনা আড়াল করতে মরদেহে আগুন দেওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।