
সম্পাদকীয়:
সম্প্রতি মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল রোধে প্রশাসনিক অভিযান এবং অটোরিকশা ভাঙচুরের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। একদিকে যাত্রীর নিরাপত্তা ও সড়ক শৃঙ্খলা রক্ষায় এই উদ্যোগকে অনেকেই স্বাগত জানালেও, অন্যদিকে এই পদক্ষেপে মানবিকতার অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আইন অনুযায়ী, মহাসড়কে অটোরিকশা, নসিমন-করিমনসহ অপ্রচলিত যান চলাচল নিষিদ্ধ। এই নিষেধাজ্ঞার পেছনে রয়েছে যানজট হ্রাস, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং নিরাপদ সড়কের নিশ্চয়তা। কিন্তু এই আইন বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে বিতর্কের অবকাশ থেকেই যাচ্ছে। অনেক চালক রয়েছেন, যাঁরা লোন নিয়ে এই অটোরিকশা কিনেছেন। তাঁদের জীবিকা নির্ভর করে এই যানবাহনের ওপর। তাদের জন্য অটোরিকশা ধ্বংস করে দেওয়া মানে শুধুমাত্র যানটি ধ্বংস করা নয়, বরং একটি পরিবারকে অনিশ্চয়তার অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া।
আইন প্রয়োগে শৃঙ্খলা রক্ষা জরুরি, তবে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আইন লঙ্ঘনের দায়ে অটোরিকশা আটক করা যেতে পারে, জরিমানা বা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে; কিন্তু তা ধ্বংস করা কতটা যৌক্তিক—তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
এই সংকটের একটি দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হতে পারে দুই স্তরের উদ্যোগ:
প্রথমত, মহাসড়কে অটোরিকশা প্রবেশ বন্ধে কঠোর নজরদারি ও বিকল্প রুট নির্ধারণ।
দ্বিতীয়ত, এই পেশার সঙ্গে জড়িত মানুষদের পুনর্বাসনের জন্য উপযুক্ত পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তে বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা।
একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারকদের প্রতি প্রশ্নও থেকে যায়—যদি মহাসড়কে এই যান নিষিদ্ধ, তাহলে তার উৎপাদন ও আমদানি এখনো অব্যাহত কেন? সমস্যার শেকড়ে না গিয়ে কেবল প্রান্তিক মানুষের ওপর দায় চাপানো হলে, তা কোনো টেকসই সমাধান হতে পারে না।
রাষ্ট্র আইন প্রয়োগ করবে, তবে নাগরিকের জীবিকা রক্ষাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। শৃঙ্খলা ও মানবিকতার ভারসাম্য বজায় রেখে, সময় এসেছে দায়িত্বশীল ও সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ নেয়ার।
শেখ রমজান হাসার (নূর)
বার্তা সম্পাদক: যায়যায় সময়