
গাজীপুর-৩ আসনের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের হালুকাইদ এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘রান্ধুনীর খাল’ এখন অস্তিত্ব সংকটে। ১৯৭৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিগত উদ্যোগে এবং সরাসরি অংশগ্রহণে খনন করা এই খালটি বর্তমানে প্রভাবশালী মহলের অবৈধ দখল আর দীর্ঘদিনের পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। ফলে খালের নাব্য হারিয়ে এখন তা সরু নালায় পরিণত হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে খালটি দখলমুক্ত করে জরুরি ভিত্তিতে পুনঃখননের মাধ্যমে এর নাব্য ও স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর সদয় হস্তক্ষেপ ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: জিয়া মডেল ও কৃষি পুনরুজ্জীবিতকরণ
তৎকালীন সময়ে বাংলাদেশের গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি পুনরুজ্জীবনের উদ্দেশ্যে শহীদ জিয়াউর রহমান দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন। যার মূল লক্ষ্য ছিল বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি ধরে রাখা এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষিকাজে সেচব্যবস্থা নিশ্চিত করে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি দেশের মডেল তৈরি করা। উন্নয়ন গবেষকদের কাছে এই পদ্ধতিটি ‘জিয়া মডেল’ হিসেবে আজও বিশেষভাবে চিহ্নিত। মূলত কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) কর্মসূচির মাধ্যমে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হয়েছিল, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিল। রাজাবাড়ী ইউনিয়নের এই রান্ধুনীর খালটি ছিল সেই কৃষি বিপ্লবের এক জীবন্ত সাক্ষী।
দখল ও নাব্য সংকটে বিপন্ন কৃষি
সরেজমিনে দেখা যায়, রাজাবাড়ী ইউনিয়নের হালুকাইদ এলাকায় খালের বিভিন্ন অংশ ভরাট করে প্রভাবশালীরা ফসলি জমিতে রূপান্তর করেছেন। দীর্ঘ সময় খনন না করায় পলি জমে খালের তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। এতে খালের পানি ধারণক্ষমতা ও নাব্য একেবারে কমে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকায় কৃত্রিম জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।
হালুকাইদ এলাকার কৃষকদের ভাষ্যমতে, এক সময় এই খালটি ছিল এলাকার কৃষি উন্নয়নের প্রাণকেন্দ্র। বোরো ও সবজি চাষের জন্য এই খালের পানিই ছিল প্রধান ভরসা। খালটি ভরাট ও নাব্য হারিয়ে ফেলায় এখন শুকনা মৌসুমে সেচ সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। বাধ্য হয়ে কৃষকরা ব্যয়বহুল গভীর নলকূপের ওপর নির্ভর করছেন, যা চাষাবাদের খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি ও প্রত্যাশা
স্থানীয় ৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
“১৯৭৯ সালে শহীদ জিয়ার হাত ধরে এই খালের যে যৌবন ছিল, আজ তা দখল আর অবহেলায় মরে গেছে। আমরা চাই দ্রুত সরকারি জরিপ পরিচালনা করে সীমানা নির্ধারণ করা হোক এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে খালটি পুনরায় খনন করে এর নাব্য ফিরিয়ে আনা হোক। এতে এলাকার কৃষি ও পরিবেশ রক্ষা পাবে।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রাকৃতিক খালটি নাব্য হারানোয় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। খালটি পুনঃখনন করা গেলে পানি নিষ্কাশন স্বাভাবিক হবে, মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন বাড়বে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে।
সাংসদ ও প্রশাসনের প্রতি আকুল আবেদন
গাজীপুর-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর সুযোগ্য নেতৃত্বে এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হচ্ছে। এলাকাবাসী বিশ্বাস করেন, জনবান্ধব এই এমপি মহোদয় হালুকাইদ এলাকার কৃষকদের দুর্ভোগ লাঘবে এবং ‘জিয়া মডেল’-এর এই ঐতিহাসিক স্মারকটির নাব্য ফিরিয়ে আনতে দ্রুত মেগা প্রকল্প গ্রহণ করবেন। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ এবং খাল পুনঃখননের মাধ্যমে একটি স্থায়ী সমাধানের প্রহর গুনছেন হাজারো ভুক্তভোগী।