
শেখ রমজান হাসান নূর
নিজস্ব প্রতিবেদক|যায়যায় সময়
২১শে জুলাই ঢাকার উত্তরা এলাকায় অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে কমপক্ষে ১৯ জন নিহত ও শতাধিক আহত হওয়ার ঘটনায় সারাদেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একসঙ্গে এত প্রাণহানি, তাও একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, দেশের ইতিহাসে বিরল ও হৃদয়বিদারক।
এই ঘটনার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নীতিগত প্রশ্ন ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নিয়ে তীব্র আলোচনাঃ
কেন একটি জনবহুল নগরীর ওপর এমন ঝুঁকিপূর্ণ প্রশিক্ষণ ফ্লাইট পরিচালিত হয়?
এই চুক্তি বা পরিকল্পনার নেপথ্যে কারা দায়ী?
—📌 সোশ্যাল মিডিয়া প্রতিক্রিয়া: ‘আমাদের সন্তানদের রক্ষা করুন’
ঘটনার ভিডিও ও ছবিগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার), ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রামে। হাজারো মানুষ নিজেদের ক্ষোভ, হতাশা ও ব্যথা প্রকাশ করেন।
🔻 একজন অভিভাবক লেখেন:
“আমার ছেলে ক্লাসে ছিল, এখন সে বার্ন ইউনিটে। প্রশিক্ষণ ফ্লাইট যদি করতেই হয়, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় কেন?”
🔻 আরেকজন মন্তব্য করেন:
“উত্তরায় বিমান বাহিনীর ঘাঁটি থাকার মানেই কি আমাদের মাথার ওপর প্রতিদিন মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে বাঁচা?”
—🛩️ প্রশিক্ষণ বিমান ও পুরনো প্রযুক্তির ঝুঁকি
প্রশিক্ষণ বিমানে ব্যবহৃত চীন-তৈরি F-7 BGI মডেলটি বহু পুরনো, এবং আন্তর্জাতিকভাবে বহু দেশ ইতোমধ্যে এটি বাতিল করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিমানটি “low-performance, high-risk” বলে পরিচিত। এতে আধুনিক নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য নেই, যা শহরের ওপর দিয়ে ফ্লাইট চালানোকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে।
—⚖️ নীতিগত প্রশ্ন: জনবহুল এলাকার ওপর ফ্লাইট — দায়িত্ব কার?
ঢাকা, বিশেষ করে উত্তরার মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় প্রশিক্ষণ ফ্লাইট পরিচালনা করা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে এখন বড় প্রশ্ন উঠছে।
বিশ্লেষকদের মতে:
এই সিদ্ধান্ত ছিল প্রতিরক্ষা বাহিনীর একক প্রশাসনিক পদক্ষেপ, যার পর্যাপ্ত ঝুঁকি মূল্যায়ন ছিল না।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সাথে সঠিক সমন্বয় ছিল কিনা, সেটিও স্পষ্ট নয়।
—🔍 তদন্ত ও দায়বদ্ধতা দাবি
সরকার ২২ জুলাইকে জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করেছে এবং উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তবে মানবাধিকার কর্মী ও সুশীল সমাজ বলছে, “শুধু তদন্ত নয়, নীতিগত সংস্কার ও দায়ীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।”
বিশেষ করে জনবহুল এলাকায় সামরিক কার্যক্রম পরিচালনায় নতুন গাইডলাইন ও “no-fly zone” নির্ধারণের আহ্বান জানানো হচ্ছে।
—👥 নাগরিকদের আহ্বান ও সহমর্মিতা
দেশজুড়ে রক্তদান, স্বেচ্ছাসেবা ও আর্থিক সহায়তার উদার হাত বাড়ানো হয়েছে।
শিল্পী, খেলোয়াড়, সাংবাদিকরা আহতদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সামাজিক আন্দোলনকারীরা ‘স্মারক স্থাপনা’ ও ‘জননিরাপত্তা নীতি’ দাবি করছেন।
—🔚 উপসংহার: এই দুর্ঘটনা শুধুই প্রযুক্তিগত নয়, এটি এক নীতিগত ব্যর্থতা
মাইলস্টোন কলেজের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এক গভীর প্রশ্ন রেখে গেলো – আমাদের নীতিনির্ধারণে মানুষ কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
এ দুর্ঘটনা যেন আর কখনও না ঘটে, সেই প্রার্থনার পাশাপাশি দাবি উঠেছে —
“জনবহুল এলাকায় আর নয় সামরিক ফ্লাইট। আর নয় অব্যবস্থাপনার বলি।”