নিজস্ব প্রতিবেদক | যায়যায় সময়
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েও একটি ছোট ভুলের কারণে স্বপ্নভঙ্গের মুখে পড়েছে যশোরের এক ভ্যানচালকের মেধাবী কন্যা মীম আখতার শিখা। ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মীম বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন প্রক্রিয়ায় ভর্তি ফি পরিশোধ করলেও নির্ধারিত সময়সীমার ভিন্ন ব্যাখ্যার কারণে জমা দিতে পারেননি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। আর তাতেই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তার উচ্চশিক্ষার পথ।
জানা যায়, মীম ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা পিতার সীমাহীন কষ্টের ফলস্বরূপ এই অর্জনটি ছিল পরিবারের জন্য একটি বড় স্বপ্নপূরণ। ভর্তি পরীক্ষায় সুযোগ পাওয়ার পর তিনি অনলাইনে নির্ধারিত সময়ে ভর্তি ফি জমা দেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাগজপত্র জমাদানের শেষ তারিখ ছিল ১ জুলাই ২০২৫, যা মীম ও তার পরিবার ভুল করে ৭ জুলাই ভেবে বসেন।
এই বিশ্বাসে, তারা ধার দেনা করে ও শেষ সঞ্চয় ব্যয় করে ৭ জুলাই যশোর থেকে গোপালগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে জানা যায়, নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ায় মীমের কাগজপত্র আর গ্রহণ করা যাবে না। বিষয়টি হতাশাজনকভাবে তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের পূর্ব বা পরবর্তী যোগাযোগও করা হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
এমন অবস্থায় হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যান মীম ও তার পরিবার। ভ্যানচালক বাবার চোখে অশ্রু, মেয়ের মুখে একরাশ শূন্যতা। মাত্র একটি তারিখের ভুল ব্যাখ্যাই কি একজন মেধাবী ছাত্রীকে তার স্বপ্ন থেকে বঞ্চিত করবে?
এমন একটি মানবিক বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সহানুভূতিশীল হস্তক্ষেপ কামনা করছে মীম ও তার পরিবার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ছে। দেশের প্রতিটি শুভবুদ্ধিসম্পন্ন নাগরিক আশা করছেন—এমন একটি সামান্য ভুলে যেন একটি প্রতিভা হারিয়ে না যায়।
মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা মহোদয় ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ,
মীমের বিষয়ে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে পুনর্বিবেচনা করে তাকে ভর্তি হওয়ার সুযোগ দিয়ে একটি স্বপ্ন পূরণের পথ করে দিন।
---🔁 আপনার একটি শেয়ার মীমের ভবিষ্যৎ গড়ে দিতে পারে।
📢 দয়া করে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে ছড়িয়ে দিন যাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টিগোচর হয়।