আসাদ হোসেন রিফাত
জেলা প্রতিনিধি: লালমনিরহাট
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানায় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের ২৭ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এ মামলায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নুরনবী খন্দকার কাজল ও মাহফুজুর রহমান বিপ্লব নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ২ জুলাই (বুধবার) রাতে পাটগ্রাম থানায় হামলা ও ভাঙচুরের খবর পেয়ে রাত ১১টার দিকে তিনটি গাড়িতে করে পাটগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেন সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল-বি) জয়ন্ত কুমার সেন এবং হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুন-নবী।
অভিযোগে বলা হয়, হাতীবান্ধা থানার সামনে উপজেলা বিএনপির অঙ্গসংগঠনের ৭০-৮০ জন নেতাকর্মী মোটরসাইকেল দিয়ে সড়কে ব্যারিকেড তৈরি করেন, যাতে করে হাতীবান্ধা থানা থেকে পুলিশের দল পাটগ্রামে যেতে না পারে। ফলে পুলিশ থানা থেকে বের হতে পারেনি এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে অবরোধকারীদের কথা কাটাকাটি হয়। মধ্যরাতে নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পরদিন বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) হাতীবান্ধা থানায় সরকারি কাজে বাধা ও হুমকির অভিযোগে ফৌজদারি আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করে পুলিশ। মামলায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল, কৃষক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
হাতীবান্ধা থানার ওসি মাহমুদুন-নবী বলেন, “লালমনিরহাটের পাটগ্রামে থানায় হামলার পর আমরা পুলিশের দল নিয়ে রওনা হতে চাইলে থানা প্রাঙ্গণে ব্যারিকেড তৈরি করে আমাদের অবরুদ্ধ করা হয়। এসময় ধাক্কাধাক্কি ও গালাগালি হয়, যা সিসিটিভি ফুটেজে ধারণ করা হয়েছে। পুলিশের কাজে বাধা ও হুমকির অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”
প্রসঙ্গত, পাটগ্রামে পাথর মহালের রয়্যালটির নামে চাঁদাবাজির অভিযোগে ইজারাদারের দুই কর্মচারীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ওই রাতে পাটগ্রাম থানায় হামলা হয়। পুলিশ জানায়, প্রায় ২০০-২৫০ জনের একটি দল থানায় ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় চার পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হন।
তবে বিএনপি নেতারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তা আমরা জানি না। এতে বিএনপির কেউ জড়িত নয়।”