আসাদ হোসেন রিফাতঃ
লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় এবার ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ত্রাণের চাল বিতরণে বিএনপি নেতা ও তাদের স্ত্রীর সঙ্গে সমন্বয় করার নির্দেশনা দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরিন হক। এ সংক্রান্ত একটি পত্র গত ৫ মার্চ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যানদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
ওই পত্রে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে একজন বিএনপি নেতা ও একজন নেতার স্ত্রীর নাম উল্লেখ করে তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে ত্রাণের তালিকা প্রস্তুত ও বিতরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
পত্রে দেখা যায়, ১নং বড়খাতা ইউনিয়নে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রহমান এবং ইউনিয়ন বিএনপির সম্পাদক মোবাইদুর রহমান মিঠুর স্ত্রী রাভানা বেগমের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ২নং গড্ডিমারী ইউনিয়নে ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সফিকুল ইসলামের স্ত্রী কামরুন্নাহার, সিংগিমারী ইউনিয়নে উপজেলা যুবদলের সাবেক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম আলম ও ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব আ. মোতালেবের স্ত্রী হোসনেআরা, টংভাঙ্গা ইউনিয়নে উপজেলা কৃষকদলের সম্পাদক মতিউর রহমান মতি ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নুরনবী কাজলের স্ত্রী নাছরীন ফারহানা সোহাগের নাম রয়েছে।
এছাড়া সিন্দুর্না ইউনিয়নে বিএনপির সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম ও বিএনপি নেতা আ. সালামের স্ত্রী শাহানাজ পারভীন, পাটিকাপাড়া ইউনিয়নে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোজাহারুল ইসলাম মোজা ও বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলামের স্ত্রী শাপলা বেগম এবং ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নে বিএনপির সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম রবি ও ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়কের স্ত্রী মাকতুবা ওয়াশিম বেলীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে একইভাবে বিএনপি নেতা ও তাদের স্ত্রীদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
পত্রে তাদের ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করে ইউনিয়ন পরিষদকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে উপকারভোগীদের তালিকা তৈরি ও ত্রাণ বিতরণ করতে হবে।
এ বিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরিন হক বলেন, “সবার সঙ্গে সমন্বয় করে অফিসিয়াল নিয়ম মেনে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করে ইউনিয়ন পরিষদে পাঠানো হয়েছে। যদি কোনো নাম নিয়ে অভিযোগ থাকে, তাহলে তা পরিবর্তন করা হবে।”