শেখ রমজান হাসান নূর
নিজস্ব প্রতিবেদক |যায়যায় সময়
গাজীপুরের শ্রীপুরে বিয়ের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় বিষাক্ত কীটনাশক সেবনের পর রিপন মিয়া (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। পারিবারিক কলহ ও মানসিক চাপের কারণে তিনি বিষাক্ত ওষুধ সেবন করেছেন বলে দাবি স্বজনদের।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে মানসিক চাপ সৃষ্টি এবং উসকানিমূলক আচরণের অভিযোগ তুলেছে পরিবার। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ।
নিহত রিপন মিয়া শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের হালুকাইদ গ্রামের সুরুজ মিয়ার ছেলে। প্রায় পাঁচ মাস আগে একই এলাকার মেজবা উদ্দিন মেজুর মেয়ে মাসুমা আক্তারের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তাঁর বিয়ে হয়।
নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল। বিশেষ করে সংসার আলাদা করা এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয় নিয়ে বিরোধ বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে এসব বিরোধের কারণে রিপন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বলে দাবি স্বজনদের।
নিহতের ভাই বরকত সংবাদমাধ্যমকে জানান, তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, রিপনের শাশুড়ি রুমা আক্তারের পরামর্শে তাঁর স্ত্রী মাসুমা আলাদা রান্না ও খাওয়ার বিষয়টি সামনে আনেন। পরে পারিবারিকভাবে তাঁদের আলাদা করে দেওয়া হয়। তবে সিদ্ধান্ত হয়, তাঁদের মা এক মাস রিপনের ঘরে এবং পরের মাস অন্য ছেলের ঘরে খাবেন।
বরকতের দাবি, এ সিদ্ধান্তের পর রিপনের স্ত্রী তাঁর মাকে ভাত দিতে পারবেন না বলে আপত্তি জানান। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মাসুমা রিপনকে উদ্দেশ করে হুমকিমূলক কথা বলেন। তাঁর অভিযোগ, এসব পারিবারিক বিরোধ ও মানসিক চাপের কারণে রিপন ধীরে ধীরে ভেঙে পড়েছিলেন।
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ নভেম্বর শুক্রবার রিপন আগাছা ও ঘাস ধ্বংস করার বিষাক্ত ওষুধ সেবন করেন। পরে তাঁকে দ্রুত গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরদিন ৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের ভাই বরকত আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন সকালে রিপনের শাশুড়ি রুমা আক্তার তাঁর মেয়েকে নিতে এসে পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে বিরূপ মন্তব্য করেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত স্ত্রী ও শাশুড়ির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম বলেন, “এই ঘটনায় বাদী বা বিবাদী কোনো পক্ষই আমাদের কাছে আসেনি। অভিযোগ পেলে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।”
এদিকে, নিহতের পরিবারের দাবি, রিপনের মৃত্যুর পেছনে কোনো ধরনের প্ররোচনা, হুমকি বা মানসিক নির্যাতনের ভূমিকা ছিল কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দেখা হোক। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।