নিজস্ব প্রতিবেদক | যায়যায় সময়
বাংলাদেশে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ক্রমবর্ধমান ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত বিচার ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবি। আজ বেলা ১১টায় "৩ মাসের মধ্যে প্রমাণিত ধর্ষকের ফাঁসি ও ধর্ষণ-নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ট্রাইবুনাল গঠনের দাবিতে" আয়োজিত এক প্রতীকী কাফন মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে এ দাবি জানানো হয়।
নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে বক্তারা আইন-বিচার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের তীব্র সমালোচনা করেন। তারা বলেন, ২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর নুসরাত হত্যাকাণ্ডের রায় হলেও গত ৬ বছরেও তা কার্যকর হয়নি। একই সাথে সর্বশেষ আছিয়ার ধর্ষক-খুনিদের বিচারও ঝুলে থাকায় ধর্ষক-খুনিদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে।
মোমিন মেহেদী বলেন, "নির্মম হলেও সত্য, চলতি বছরের ছয় মাসে বাংলাদেশে যে পরিমাণ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, সেই সংখ্যা ২০২৪ সালের পুরো বছরের চেয়ে অনেক বেশি। এছাড়া গত ছয় মাসে হাজারেরও অধিক ধর্ষণের চেষ্টা হয়েছে।" তিনি আরও বলেন, "কিছু রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে 'জুলাই চেতনা'র নামে ধর্ষণ-নিপীড়নের চর্চা হচ্ছে। যখন মসজিদে ময়নার মতো শিশুর লাশ পাওয়া যায়, যখন আমার মা-আমার বোন ধর্ষিত হয়, তখন তারা অতীত ফ্যাসিস্টদের পথ ধরে চেতনা ব্যবসায় নামে-জলকেলি করে।" গণমাধ্যমের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, "চলতি বছরের ছয় মাসে ৫ শতাধিক ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, তখন আমরা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা থাকা বা না থাকার কোনো কারণ খুঁজে পাই না।"
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, নারীর প্রতি সহিংসতার চার ভাগের একভাগও গণমাধ্যমে আসে না। কেবল আলোচিত এবং গ্যাং রেপের মতো ঘটনাগুলো সামনে আসে। শক্তিশালী অপরাধীরা অনেক সময় স্থানীয় গণমাধ্যমেও খবর প্রকাশে বাধা দেয়। তারা বলেন, কেবলমাত্র বিচার না হওয়ায় গত ১১ মাসে ৮৭০টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।
নতুনধারার নেতৃবৃন্দ জানান, তারা জনমানুষের রাজনীতি করেন এবং গত ১৩ বছরে ৪৮ বার '৩ মাসের মধ্যে প্রমাণিত ধর্ষকের ফাঁসি'র রায় কার্যকরের দাবিতে রাজপথে দাঁড়িয়েছেন। তারা অভিযোগ করেন, আগের ফ্যাসিস্টরাও ধর্ষকের পক্ষে নীরব ভূমিকা পালন করেছে এবং নব্য ফ্যাসিস্টরাও ধর্ষকদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে, এমনকি কোনো কোনো ধর্ষককে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম করার জন্য অর্থায়নও করছে।
কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য রাখেন প্রেসিডিয়াম মেম্বার বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব কাজী মুন্নি আলম, যুগ্ম মহাসচিব মনির জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়াজেদ রানা, রুবেল আকন্দ, আফতাব মন্ডল, আলেয়া বেগম আলো, হাফিজুর রহমান, জাতীয় শিক্ষাধারার সদস্য কাজী নওরীন, কাউসার হোসেন প্রমুখ।
দাবি:
*৩ মাসের মধ্যে প্রমাণিত ধর্ষকের ফাঁসি কার্যকর করতে হবে।
*ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে দ্রুত ট্রাইবুনাল গঠন করতে হবে।
*ধর্ষণ মামলার রায় দ্রুত কার্যকর করতে হবে।
*ধর্ষকদের রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় বন্ধ করতে হবে।