শেখ রমজান হাসান নূর
নিজস্ব প্রতিবেদক | যায়যায় সময়
“রবিবারে কাজের লোক খুঁজছি। কাজের লোক না পেয়ে ধান কাটতে পারিনি। রাতে একদিনের বৃষ্টিতেই এখন সব ধান পানির নিচে। এত খরচ—সব জলে গেল।” আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিলেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার হালুকাইদ গ্রামের বাসিন্দা দ্বীন মোহাম্মদ ও বাচ্চু মিয়া।
সোমবার রাত ও সকালে টানা ভারি বর্ষণে গ্রামটির শত শত বিঘা পাকা ধানক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এর আগে রোববার দিবাগত রাতেও বৃষ্টি হয়। দুই দফা বৃষ্টিতে কৃষকরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
সোমবার দুপুর ৩টার দিকে হালুকাইদ গ্রামে সরেজমিনে দেখা যায়, পারুলী নদী ও রান্দুনির খালের দুই পাশের বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ পানিতে ডুবে গেছে। কোথাও কোথাও পানির ওপর পাকা ধানের শীষ আংশিক দেখা যাচ্ছে। খালের পাড় উপচে পানি প্রায় সড়কের কাছাকাছি চলে এসেছে।
সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে পানিতে তলিয়ে যাওয়া নিজের ধানক্ষেত দেখছিলেন কৃষক দ্বীন মোহাম্মদ, বাচ্চু মিয়া, আব্দুল বাতেন ও ফারুক হোসেন (মিষ্টন)। তারা জানান, গ্রামের শতাধিক বিঘা জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এত দ্রুত এমন বড় ক্ষতি হবে, তা কেউ ভাবতে পারেননি। এছাড়া শ্রমিক সংকটের কারণে সময়মতো ধান কাটতে পারেননি অধিকাংশ কৃষক।
স্থানীয় কৃষক ও গণমাধ্যমকর্মী মাহবুবুল আলম জানান, তার প্রায় ৫ বিঘা জমির পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। তিনি বলেন, “সকাল থেকে টানা ভারি বর্ষণে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পানি কমলে হয়তো ধান কাটা যাবে, তবে অর্ধেক ফলনও পাওয়া যাবে না।”
একই গ্রামের কৃষক মুক্তা মনি বলেন, “সোমবার সকাল থেকে ধান কাটার কথা ছিল। কিন্তু বৃষ্টির কারণে শুরু করা যায়নি। এখন সব ধান পানির নিচে।”
গ্রামের জহিরুল ইসলাম, মো. রুবেল ও মোতালেব মিয়া জানান, বৃষ্টি না হলে এক-দুই দিনের মধ্যে কিছু ধান ভেসে উঠতে পারে। তবে এসব ধান কেটে মাড়াই করলে অর্ধেক দামও পাওয়া যাবে না।
কৃষকদের ভাষ্যমতে, এ বছরের ফসলের পেছনে যে খরচ হয়েছে, তার বেশিরভাগই লোকসান হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানার দপ্তরে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।