**গাজীপুরে ব্রিফকেসে খণ্ডিত নারীর লাশ, রহস্য উদঘাটনের দাবি পিবিআইয়ের**
শেখ রমজান হাসান নূর
নিজস্ব প্রতিবেদক|যায়যায় সময়
গাজীপুরের ভবানীপুররে কালভার্টের নিচে ডোবার পানিতে ব্রিফকেস ও প্লাস্টিকের বস্তায় ভাসমান খণ্ডিত নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন, পিবিআই।
নিহতের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যায় ব্যবহৃত বটি দা, নিহতের জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল ফোন ও জুতা।
সোমবার সকালে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান গাজীপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার।
তিনি জানান, গত ১১ সেপ্টেম্বর জয়দেবপুরের ভবানীপুর এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে কালভার্টের নিচে ডোবার পানিতে একটি ব্রিফকেস ও প্লাস্টিকের বস্তা ভাসতে দেখা যায়। পরে সেগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। ব্রিফকেস ও বস্তার ভেতর পাওয়া যায় এক নারীর খণ্ডিত ও অর্ধগলিত মরদেহ।
অজ্ঞাত ওই নারীর পরিচয় ও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে ছায়া তদন্ত শুরু করে পিবিআই। তথ্যপ্রযুক্তি, ক্রাইমসিন বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একপর্যায়ে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নিহতের নাম ডলি আক্তার, বয়স ৩০ বছর। তিনি জয়দেবপুরের বানিয়ারচালা এলাকায় ভাড়া বাসায় একাই থাকতেন।
পিবিআইয়ের দাবি, ডলি আক্তারের সঙ্গে মিশন ইসলামের প্রায় পাঁচ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে ডলি মিশনের ভাড়া বাসায় যান। সেখানে মিশন ইসলাম, তার মা বানু আক্তার ও ডলি একসঙ্গে খাবার খান। পরে বানু আক্তার পাশের কক্ষে গেলে ডলিকে ঘুমের ও অ্যালার্জির ওষুধ খাওয়ান মিশন।
পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ডলি ঘুমিয়ে পড়ার পর রাত আনুমানিক দুইটার দিকে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরদিন মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে একটি স্যুটকেস কেনেন মিশন। তবে মরদেহ স্যুটকেসে না ধরায় বটি দা ও ব্লেড দিয়ে কোমর থেকে মরদেহ দ্বিখণ্ডিত করা হয়।
পরে মরদেহের এক অংশ স্যুটকেসে এবং অপর অংশ প্লাস্টিকে মুড়িয়ে বস্তায় রাখা হয়। এরপর বন্ধু মিজানুর রহমান মিল্টনের সহায়তায় স্যুটকেস ও বস্তা অটোরিকশায় করে ভবানীপুর এলাকায় নিয়ে কালভার্টের নিচে ডোবার পানিতে ফেলে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পিবিআই।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ১২ সেপ্টেম্বর মিজানুর রহমান মিল্টন, মিশন ইসলাম ও তার মা বানু আক্তারকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।
গ্রেপ্তার তিনজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিশনের বাসা থেকে হত্যায় ব্যবহৃত বটি দা, স্কচটেপের অবশিষ্টাংশ, ডলি আক্তারের জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল ফোন ও এক জোড়া জুতা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ঘটনাসংক্রান্ত সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করেছে তদন্তকারী সংস্থা।
পিবিআই গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার জানান, গ্রেপ্তার তিনজনই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার করা আলামত ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।