গাজীপুরে ৯৯৯ ফোন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছানোর পর অস্ত্র গুলি ছিনতাই, আহত ৩ পুলিশ,গ্রেফতার ৫ জন

Top News এক্সক্লুসিভ প্রধান খবর শিরোনাম সারাদেশ

শেখ রমজান হাসান (নূর)

নিজস্ব প্রতিবেদক  :

যায়যায় সময়.কম

গাজীপুরের শ্রীপুরে আটক ব্যাক্তিদের উদ্ধারের সময় পুলিশের ওপর হামলা ও অস্ত্র গুলি ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে তিন ঘন্টা অভিযান চালিয়ে অস্ত্র গুলি উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে উপজেলার নোয়াগাঁও এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশের একজন উপ পরিদর্শক, একজন কনস্টেবল, একজন আনসার সদস্যসহ সাতজন হন। আহতরা হলেন উপ পরিদর্শক(এসআই) রফিকুল ইসলাম-২, কনস্টেবল খোরশেদ আলম, আনসার সদস্য সুকুমার রায়। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে আহত আবুল হোসেন রনি, ফয়সাল আহমেদ, আবুল কালাম ও অমর বেপারী। তারা কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার, হোমনা ও লক্ষীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার বাসিন্দা। তারা বিদেশে লোক পাঠানো ঢাকার রাখা ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানীতে কাজ করেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো শ্রীপুরের নোয়াগাঁও গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের স্ত্রী রৌশনী, নাজমুল হকের স্ত্রী মনীষা মনি, আফসার উদ্দিনের ছেলে ফরহাদ, জাফর মোল্লার ছেলে তাজুল ইসলাম ও সোলায়মানের ছেলে তাজুল ইসলাম।

উদ্ধারকৃতদের দেয়া ভাষ্যমতে, আবুল হোসেন রনি বিদেশে লোক পাঠিয়ে থাকেন। নোয়াগাঁও গ্রামের ওই পরিবারের দুজনকে দুবাই পাঠানোর কথা বলে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারীতে দুই লক্ষাধিক টাকা নেন। করোনার কারনে বিদেশে পাঠাতে না পারায় রৌশনীর পরিবার তাদের টাকা ফেরত চান। আবুল হোসেন রনি কিছু টাকা ফেরতও দেন। আরও লোক পাঠানোর কথা বলে খবর পাঠিয়ে তাদেরকে কুমিল্লা থেকে শ্রীপুরের নোয়াগাঁও গ্রামের রৌশনীর স্বামী মৃত আব্দুর রহমানের বাড়িতে আসতে বলেন।

গত বৃহষ্পতিবার কুমিল্লা থেকে আবুল হোসেন রনি ও মালেক নামে দু’জন নোয়াগাঁও রৌশনীর স্বামী মৃত আব্দুর রহমানের বাড়িতে আসেন। পরে তাদেরকে ওই বাড়িতে আটক করে মারধোর করে বলেন,বাড়ি থেকে আরও টাকা নিয়ে আসার জন্য । পরে তারা ফোনে যোগাযোগ করলে বিষয়টি মীমামংসার জন্য কুমিল্লা থেকে তাদের আরও তিনজন শুক্রবার নোয়াগাঁও আসেন।

আবারো তাদেরকেও আটক করে মরাধোর করা হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্য থেকে মালেক নামে একজন পালিয়ে রক্ষা পান। পরে তাদের মধ্য থেকে একজন কৌশলে ট্রিপল নাইনে ফোন করে পুলিশকে খবর দেন।

শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশের একটি দল তাদের উদ্ধার করতে যায়। এসময় পুলিশ দেখে রৌশনীর বাড়ির লোকজন ক্ষিপ্ত হয়। পরে তারা পুলিশ সদস্যদের মারধোর করে একটি শটগান ও আট রাউন্ড গুলিভর্তি একটি ম্যাগজিন ছিনিয়ে নেয়।

শ্রীপুর থানার ওসি খোন্দকার ইমাম হোসেনসহ জেলা পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। ওই রাত দেড়টার দিকে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র-গুলি, তিন পুলিশ সদস্য ও আটককৃত চারজনকে উদ্ধার করেন।

ওসি জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজন, চিহ্নিত ২৪ জন ও অজ্ঞাতনামা কমপক্ষে ১৫ জনসহ ৪০ জনকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা করেন। আহত উপ পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম ওই মামলার বাদী। আটক করে রাখার ঘটনায় উদ্ধারকৃত আবুল হোসেন রনি গং আরেকটি পৃথক মামলা করেছেন। আহতদের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।